এলাকার বড় ভাই, এলাকার ছোট ভাই। এরা নানান বিষয় নিয়ে কথা বলে। এর আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গি হামলা, ছাত্রলীগের মাস্তানিসহ আরো অনেক বিষয়ে কথা বলেছে। এবার কথা হলো নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে। শুনুন তাদের আলাপন।

ছোট ভাই: কি ব‍্যাপার বড় ভাই, সারা শরীরে মাটি লেগে আছে! কোথা থেকে বের হলেন?

বড় ভাই: কোথা থেকে বের হবো? বাগানে গাছ লাগিয়েছি, তাই মাটি লেগে আছে।

ছোট ভাই: চিল্লাচ্ছেন কেন? আমি ভাবলাম গর্ত থেকে বের হলেন নাকি! ফেসবুকে দেখলাম অনেকেই গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে ব‍্যাপক চিল্লাপাল্লা করছে।

বড় ভাই: না, আমি গর্ত থেকে বেরিয়ে চিল্লাচ্ছি না। গর্তে ঢুকবো কেন!

ছোট ভাই: তা, আছেন কেমন? ক’দিন একেবারেই দেখা সাক্ষাৎ নাই। একবার ভাবলাম হয়তো হজে গেছেন। পরে শুনলাম যাননি।

বড় ভাই: নাহ, বাসায় ছিলাম। মন মানসকিতা ভালো না। বাসা থেকে বের হতে মন চায় না।

ছোট ভাই: হ ভাই, দেশের যে কী অবস্থা! মন ভালো থাকার উপায় নাই। কারো জীবনই নিরাপদ না। যার তার গায়ের উপর বাস, ট্রাক উঠে যাচ্ছে!

বড় ভাই: তা ঠিক বলেছিস, কিন্তু আমার মন অন‍্য কারণে খারাপ।

ছোট ভাই: তা বুঝতে পারছি। বাস দুর্ঘটনায় ছাত্র নিহতের খবর শুনে শাহজাহান খান যেভাবে হাসাহাসি করলো, মন ভালো থাকে কিভাবে!

বড় ভাই: হুম তার এভাবে হাসা ঠিক হয়নি। কিন্তু আমার মন অন‍্য কারণে খারাপ।

ছোট ভাই: জ্বি ভাই, বুঝতে পারছি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পুলিশ যেভাবে পিটিয়েছে, রাবার বুলেট চার্জ করেছে, তাদের গায়ের উপর পিকআপ ভ‍্যান তুলে দিয়েছে, এটা শুনে যার মন ভালো থাকে, সেতো সাক্ষাৎ জানোয়ার। আপনার মন খারাপ হবে, এটাই স্বাভাবিক।

বড় ভাই: হুমম, ফেসবুকে দেখেছি। পুলিশের সংযত আচরণ করা উচিত ছিলো। কিন্তু আমার মন অন‍্য কারণে…।

ছোট ভাই: এবার বুঝতে পারছি। এরকম ঝুম বৃষ্টির মাঝে বাচ্চাদেরকে রাস্তায় আন্দোলন করতে দেখে আপনার বুক ভেঙ্গে যাচ্ছে। খুব কষ্ট, না ভাই?

বড় ভাই: হ, এমন ওয়েদারে রাস্তায় নামার কী দরকার! কিন্তু আমার মন অন‍্য…।

ছোট ভাই: এবার আর ঢিল মিস হবে না। আপনি ইউনিফর্ম পরে ওদের সাথে রাস্তায় নামতে পারছেন না, গৌরবের অংশ হতে পারছেন না, এজন‍্য মন খারাপ। আমি এবার ঠিকই ধরতে পেরেছি। মন খারাপ কইরেন না ভাই। এটা সময়ের ব‍্যাপার।

বড় ভাই: তুই চুপ করবি? এসব কারণে না, বাল! আমার মন অন‍্য কারণে খারাপ।

ছোট ভাই: জ্বি ভাই, আমি আগেই বুঝছিলাম আপনার মন কীসের জন‍্য খারাপ। হুদাই ত‍্যানা প‍্যাঁচাচ্ছিলাম। এই যে সংশোধিত আইনে প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটলে চালকের ২৫ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তার রাখা হয়েছে, এটা চূড়ান্ত মাত্রার অমানবিকতা। একজন হত দরিদ্র চালক কোথা হতে ২৫ লাখ টাকা দিবে! এমন অবিবেচকের মত কাজ সরকার কিভাবে করতে পারলো! ছিহ!

বড় ভাই: ক’টা দিন খুব শান্তিতে ছিলাম। তোর সাথে দেখা হয়নি। এত কথা বলিস, আমার কান দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে। তোকে বলেছি এসব কারণে আমার মন খারাপ না। বালের বাল তুই কোন কথাই শুনছিস না।

ছোট ভাই: ঠিক আছে বলেন, কী কারণে মন খারাপ?

বড় ভাই: আচ্ছা, তুই বল, এই যে একটা প্রজন্ম, এরাইতো ভবিষ‍্যতের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট হবে, তাই না? এখন ধর একজন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে যদি বলে, “আমার প্রিয় হালারপো হালার জনগণ….” তখন কেমন শোনাবে? না, তুই জাস্ট চোখের সামনে দৃশ‍্যটা দেখার চেষ্টা কর, কান দিয়ে শোনার চেষ্টা কর। এ কেমন এক প্রজন্ম প্রিয় সোনার বাংলা দাবড়ে বেড়াচ্ছে! আই কান্ট ইমাজিন! এদের বাবা মা এদেরকে কী শেখাচ্ছে!

ছোট ভাই: বড় ভাই, আপনার বাবা কবে আপনাকে ‘বাল’ শব্দটা শিখিয়েছেন?

বড় ভাই: থাপ্পড় দিবো একটা, বদমাশ। আমার বাবা কেন গালাগালি শেখাবেন?

ছোট ভাই: প্রজন্মকেও তাদের বাবা মা গালি শেখায়নি। যেমন আমি যখন বন্ধুদের সাথে কথা বলি, তখন খুব ‘বাল’ ‘বাল’ করি। এটা শিখছি আপনার কাছ থেকে। আপনার বাল শব্দটি ব‍্যবহারের টাইমিং আমার খুব ভালো লাগে। একদম সঠিক সময়ে জায়গামত ব‍্যবহার করেন। ইটস অ‍্যান আর্ট! প্রজন্মও আপনার মতো পারফেক্ট। সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় সঠিক ব‍্যক্তির উপর গালির প্রয়োগ করতেছে।

বড় ভাই: নাহ! একমত হতে পারলাম না। আমাদের সংস্কৃতি আজ ধ্বংসের মুখে। উচ্ছন্নে গেছে ভবিষ‍্যৎ প্রজন্ম। ভেঙ্গে পড়ছে সমাজ কাঠামো। রাষ্ট্রের শিরা উপশিরায় আজ ভুল বিপ্লবের পদধ্বনি। আর মানতে পারছি না, আর মানা যাচ্ছে না। আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? আমি ভাবতে পারছি না এই ছেলেমেয়েগুলো সংসদে যাবে, দেশ চালাবে! উফ, বাল!!

ছোট ভাই: ভাই শান্ত হোন। আপনার হার্টের অসুখ। প্লীজ ভাই। আপনি এত হতাশ হচ্ছেন কেন? সংসদে গালাগালি নতুন কিছু না। এখন এমপিরা গালাগালি করে, ফিউচারে প্রধানমন্ত্রীও করবে। তখন প্রধানমন্ত্রী বলবে, “প্রিয় হালারপো হালার জনগণ…”, জনগণও বলবে “মাননীয় বালের প্রধানমন্ত্রী!” সব সমানে সমান।

বড় ভাই: আচ্ছা, তোর বাইকটা ঠিক আছে?

ছোট ভাই: বাইক!? কেন আপনার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে?

বড় ভাই: না, সব ঠিকঠাক। আমার গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নাই। একটু বাইরে যেতে হবে । ইউরিয়া সারের জন‍্য। কিন্তু পথে পোলাপানরা….।

ছোট ভাই: বাইক ঠিক আছে, নিতে পারেন। কিন্তু তেল কিনতে হবে আপনাকে।

বড় ভাই: তোর ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক আছে?

ছোট ভাই: ঠিক আছে। কেন? আমার লাইসেন্স দিয়ে আপনি কী করবেন?

বড় ভাই: আমার লাইসেন্স রিনিউ করা হয়নি কয়েক বছর। তুই আমাকে ২ কেজি ইউরিয়া এনে দে না।

ছোট ভাই: ভাই, আমি যাবো এখন হাসপাতালে। নানীকে দেখতে। তারপর যাবো গাবতলী। ছোট খালাকে রিসিভ করতে। সেখান থেকে যাবো যাত্রাবাড়ি। বড় মামীকে নিয়ে হাসপাতাল যেতে হবে। তারপর সন্ধ‍্যায় যাবো বসুন্ধরা সিটিতে, গিফট কিনতে। গিফট কিনে যাবো বিয়ের দাওয়াতে। এক্স গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে। সেখান থেকে যাবো বারে। বুঝেনইতো এক্স গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে…। বার থেকে কখন ফিরি, ঠিক নাই। এত ব‍্যস্ততার মাঝে সার….!

বড় ভাই: ধুর বাল! বালরে কইলাম ২ কেজি বাল আনতে। বাল আমারে বালের গল্প শোনায়। বালের বাল ঠিক রাখা মুশকিল। আমার বাল গরম হয়ে যায়, বাল ছিঁড়ে যায়। বাল তুই আর আমার সামনে আসবি না, বাল।

ছোট ভাই: ঠিক আছে ভাই, আসবো না। আপনি কি এখন আবার গর্তে ঢুকবেন, নাকি বৃষ্টির জন‍্য অপেক্ষা করবেন? বৃষ্টি আসলে গায়ের মাটি ধুয়ে যাবে। কিছুটা হালকা লাগবে।

বড় ভাই: এই তুই যাবি এখান….।

Facebook Comments

কিছু বলুন

দয়া করে মন্তব‍্য করুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.