বিএনপির “ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন” কথাটি একটি জাতীয় সমস‍্যায় পরিণত হয়েছে। ঈদের পর ঈদে চলে যায়, আন্দোলনের পর আন্দোলন চলে যায়, কিন্তু বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলনের দেখা মেলে না। দেশের ষোলো সতের কোটি মানুষের অপেক্ষার যেন শেষ নেই। এভাবে চলতে পারে না। বিএনপির উচিত দেশের কথা ভেবে, জনগণের কথা ভেবে তাদের সংলাপে পরিবর্তন আনা। আন্দোলন হবে না, সেটা আমরা জানি। কিন্তু বিএনপি নেতারা যেন আর “ঈদের পর” শব্দ দু’টি উচ্চারণ না করেন। এর পরিবর্তে তারা আরো অনেক কিছু বলতে পারেন। আমরা চেষ্টা করেছি বিএনপির শব্দসংকটকালে পাশে দাঁড়াতে, সাহায‍্যের হাত বাড়িয়ে দিতে।

“ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন” না বলে, এর পরিবর্তে আর কী কী বলা যায়, দেখুন।

1

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সাহায‍্য নেয়া যায়

জুনের ৪ তারিখে জোলির জন্মদিন। তার ক’দিন পর ঈদ। ঈদের পর না বলে জোলির জন্মদিনের কথা বলা যায়। ঘোষণায় একটা নতুনত্ব থাকলো, গ্ল‍্যামারও থাকলো। কেউ কিছু বলবে না।

2

আম কাঠালের দোহাই দেয়া যেতে পারে

এখন আম কাঁঠালের সিজন। সামনে জ্যৈষ্ঠ মাস, মধুমাস। আম কাঁঠাল লিচু খাওয়ার সময়। এসময় কিসের আন্দোলন! ফল খাওয়ার দোহাই দিয়ে আরামসে কিছুদিন কাটিয়ে দেয়া যায়।

3

সামনে সোনম কাপুরের হানিমুন

বাংলাদেশের নিউজপেপারগুলো এখন সোনম কাপুরের বিয়ে নিয়ে ব‍্যস্ত। এরপর শুরু হবে হানিমুনের ক‍্যাচাল। হানিমুনের আগে আন্দোলন করে মিডিয়া কভারেজ পাওয়া যাবে না। সুতরাং মেয়েটির হানিমুন শেষে আন্দোলন করাটাই বেটার হবে। দেশের মানুষ বিষয়টা বুঝতে পারবে।

4

নুসরাত ফারিয়াও একটা অপরচুনিটি হতে পারে

মানুষের আন্দোলন করার টাইম কই? সবাই ব‍্যস্ত নুসরাত ফারিয়ার গানে ডিসলাইক দিতে। আন্দোলন শুরু করার জন‍্য যদি একটু বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে নুসরাত ফারিয়ার কথা বলা বেটার। তার গানে এখনো আড়াই লক্ষ ডিসলাইক হয়নি। ১০ লক্ষ হতে আরো কিছুদিন লাগবে।

5

আগে খুশির সংবাদটা আসুক, তারপর আন্দোলন

ওরা ইয়ে করেছে। এখন একটা খুশির সংবাদ আসবে। ঘরে নতুন অতিথি আসবে। এসময় আন্দোলন সংগ্রাম করলে বাবুর একটা ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই ওদের বাবুটা আসার পর আন্দোলন করলে ভালো হয়। একটা যৌক্তিক কারণ পাওয়া গেলো, আবার কয়টা দিন ঘুমে থাকা গেলো। দীর্ঘদিন ঘুমে থাকা লাগবে না, সামনের সিজনেই বাবু আসতেছে।

6

সাব্বিরের সেঞ্চুরি না দেখে কিসের আন্দোলন!

সাব্বির বলেছিলো ওয়ানডেতে আমাদের পক্ষে চার পাঁচশ রান তাড়া করেও জেতা সম্ভব। তা সম্ভব, আমরা পারবোও। কিন্তু সাব্বিরের একটা সেঞ্চুরি ছাড়া তা কিভাবে সম্ভব? সাব্বিরের মনসংযোগ দরকার। এমতাবস্থায় আন্দোলন করলে সাব্বিরের মনযোগে বিঘ্ন হবে। তাই তার সেঞ্চুরির কথা বলে কিছুদিন সময় বাড়িয়ে নেয়া যায়।

7

জায়েদ খানের সিক্সপ‍্যাককে আন্ডারএস্টিমেট করা উচিত না

বুঝছি, আপনারা আসলে সহসা আন্দোলন করতে পারবেন না। আরো সময় দরকার। হতাশার কিছু নেই, হাতের কাছে জায়েদ খানের ‘মিশন সিক্সপ‍্যাক’ আছে। সে খুব চেষ্টা করছে তার ওপেনসোর্স নাভিটাকে সিক্সপ‍্যাক করতে। যদিও কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও আরো সময় দিতে হবে। খান সাহেবের নাভির সিক্সপ‍্যাকের কথা বলে মাসের পর মাস কাটিয়ে দেয়া যাবে। আন্দোলনের এত তাড়া নেই।

8

মারুফের কালো বন্দুক সবসময় সম্ভাবনার কথা বলে

আরো সময় দরকার? চিন্তা করবেন না। জায়েদ খানের নাভি সিক্সপ‍্যাক হয়ে গেলেও কাজী মারুফের বন্দুকের গুলি এত সহজে শেষ হবার নয়। কারণ জায়েদ খানের নাভীর গভীরতা দেখছেন? কত গুলি আছে করেন। ১০ পেটাবাইট স্পেস, জায়গার অভাব নাই, মারুফের বন্দুক বিশ্রাম নেয়ার সময়ও পাবে না।

9

লিভারপুলের আর লীগ জেতা হলো না

মেশিনের ব‍্যাপার স‍্যাপার, একটা ম‍্যালফাংশন দেখা দিতে পারে, মারুফের বন্দুক থেকে যেতে পারে। কিন্তু লিভারপুলের লীগ জেতা? এত সহজে হচ্ছে না। নিশ্চিন্তে তাদের লীগ জেতার দোহাই দেয়া যেতে পারে। আন্দোলন শুরু করতে কত সময় দরকার? তারচে বেশি পাবেন।

10

শেষ ভরসা আর্জেন্টিনা

যদি আর জীবনেও আন্দোলন করতে না চান, তাহলে আর্জেন্টিনার সাহায‍্য নিন। জোলির জন্মদিনের কেক হজম হয়ে যাবে, আম কাঁঠাল শেষ হয়ে যাবে, সোনম কাপুরের হানিমুনের রেশ কেটে যাবে, রে-পোটাকায় কয়েক মিলিয়ন ডিসলাইক হয়ে যাবে, ফুফু ভাতিজার বাবুটা সিংহাসনে বসবে, সাব্বিরের কয়েকটা সেঞ্চুরি হয়ে যাবে, জায়েদ খানের প্রতি অঙ্গে সিক্সপ‍্যাক হবে, মারুফের বন্দুকের গুলি ফুরিয়ে যাবে, লিভারপুল লীগ জিতবে, কিন্তু আর্জেন্টিনার আরেকবার বিশ্বকাপ জেতা হবে না। সুতরাং বিএনপির আন্দোলনও আর হবে না।

“আর্জেন্টিনা আরেকবার বিশ্বকাপ জেতার পর সরকার পতনের কঠোর আন্দোলন শুরু হবে” এ কথা বলে আরামসে ঘুমিয়ে থাকেন, ঘুমের মাঝে কোন কিছু ইডিট করার করার দরকার হবে না।

আন্দোলন করারও দরকার হবে না।

 

Facebook Comments

কিছু বলুন

দয়া করে মন্তব‍্য করুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.