প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ার পরের সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ মানুষ এ সময়টা ঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারে না। ফলে জীবনের অন‍্যান‍্য ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রত‍্যাখ‍্যান ও ব‍্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়। প্রত‍্যাখ‍্যাত হওয়ার পরের সময়টা বুদ্ধিমত্তার সাথে পার করতে হয়। কিন্তু এসময় বুদ্ধি কাজ করে না, আবেগ বেশি কাজ করে। এবং নিকটজনরা অপ্রত‍্যাশিত আচরণ করে। একেকজন একেক রকমের বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে ভুক্তভোগীকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়। কেউ কেউ সুযোগ পেয়ে কটাক্ষ, বিদ্রুপ, তামাশা করতে ভুল করে না। তাই ভুলেও এমন জটিল পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ অন‍্যের হাতে তুলে দেয়া যাবে না। নিজের সমস‍্যা ও এর সমাধান নিজের হাতে রাখতে হবে। এই লেখায় মূলত সমস‍্যা ও এর সমাধান নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু উপায় নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

লেখাটি ছেলেদের উদ্দেশ‍্যে। কারণ, কেউ ফিরিয়ে দিলে ছেলেরাই সবচে বেশি ঝামেলায় পড়ে এবং ঝামেলা করে।

1

মনের কষ্ট গ্রহণ করুন

এড়িয়ে যাবেন না। তাহলে এটা আটকে থাকবে। একটা জটিলতর অনুভূতি সৃষ্টি করবে, যা পরবর্তীতে আপনাকে ভোগাবে। কান্না আসলে প্রাণ ভরে কান্না করুন। মন খারাপ হলে মন খারাপ করুন। ধেয়ে আসা দুঃখ কষ্ট গ্রহণ করুন। ভোগ করুন। পাশাপাশি খুব ধীরে ধীরে নিজেকে অন‍্যদিকে ডাইভার্ট করার চেষ্টাও করুন। কিন্তু খুব জোর দেয়া যাবে না।

2

ফোন বন্ধ করবেন না, ফেসবুক ডিএক্টিভেট করবেন না

এটা করলে পরিচিতরা অন‍্য মাধ‍্যমে আপনার খবর নেয়ার চেষ্টা করবে। জানতে চাইবে আপনার কী হয়েছে, কোন সমস‍্যা হলো কিনা। কেউ কেউ জানার জন‍্য খুব জোরাজুরি করবে। ফলে খুব বিরক্ত হবেন, বিষের মত মনে হবে, যন্ত্রণা বাড়বে। সুতরাং দরজা জানালা সব খোলা রাখুন। কারো ফোন ধরতে ইচ্ছে না হলে মেসেজ করে জানিয়ে দিন ব‍্যস্ত আছে, পরে কল দিবেন। ফেসবুকে ফুল, পাখি, লতাপাতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, সুপারহিরোদের নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছে করবে না, সুতরাং লিখবেন না। সমস‍্যা নেই। লগইন থাকেন, যেন সবাই আপনার নামের পাশে সবুজ বাতিটা দেখতে পায়।

3

নিজেকে পরিস্থিতি থেকে দূরে কোথাও নিয়ে যান

ঠিক যে জায়গায় বসবাসরত অবস্থায় প্রত‍্যাখ‍্যাত হয়েছেন, সেখান থেকে দূরে কোথাও চলে যান। কিছুদিনের কোথাও বেড়িয়ে আসুন। এমন কোন স্থানে, যেখানে যাবো যাবো বলেও যাওয়া হয়নি। পাহাড় বা সমুদ্রের কাছাকাছি হলে বেশি ভালো। অবশ‍্যই একা যাবেন। সাথে করে ডায়েরি অথবা নোট খাতা, কিছু বই ও মিউজিক কালেকশন নিয়ে যাবেন। যদি এরকম কোথাও যাওয়ার সময় ও সুযোগ না থাকে, তাহলে চেষ্টা করুন প্রিয় কোন আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার। মামা, ফুফু, খালা অথবা বোনের বাড়ি যেতে পারেন।

4

মনের কষ্টের কথা কাউকে বলবেন না

হ‍্যাঁ, ইনফরমেশন হিসেবে কথাটি সবচে কাছের বন্ধুকে বলতে পারেন। মোটামুটি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় গোপন রাখলেন, পরে বন্ধু অন‍্য কোনভাবে জানতে পারলো, তখন সে কষ্ট পাবে। তাই বন্ধুকে বলুন। বলুন স্বাভাবিকভাবে। খুব দুঃখ নিয়ে নয় এবং এ বিষয়ে বন্ধুর সাথে অপ্রাঙ্গিকভাবে বেশি বেশি কথা বলবেন না। যারা দুঃখের কথা বেশি বলে, এবং অন‍্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থাকে, নিকটজনরা তাকে নিরাপদ মনে করে না। এড়িয়ে চলে অথবা দয়া ও করুণার ঝাঁপি খুলে বসে। অবশ‍্যই কেউ না কেউ আছেন, যিনি আপনার সাথে এমন আচরণ করবেন না। কিন্তু আপনি তাকে জানেন না। তাহলে ঝুঁকি নিবেন কেন?

সেক্ষেত্রে আপনার দুঃখ যাবে কোথায়? লিখে ফেলুন। মনের যত দুঃখ, সব লিখে ফেলুন। লিখতে কার্পণ‍্য করবেন না। বরং পারলে একটু বাড়িয়েই লিখুন। লিখে লুকিয়ে রাখুন, কাউকে দেখাবেন না। একটা কথা বিশেষভাবে মনে রাখবেন, ভঙ্গুর যেকোন কিছুর ভ‍্যালু কম। নিজেকে অন‍্যের কাছে ভঙ্গুর হিসেবে উপস্থাপন করবেন না।

5

নতুন অভ‍্যাসে যুক্ত হোন

স্পোর্টস হলে ভালো হয়। যদি জিমে না যেয়ে থাকেন, তাহলে কোন একটি জিমে ভর্তি হয়ে যান। সুইমিংও বেটার। জিমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না থাকলে কোন একটি ব‍্যায়ামের যন্ত্র কিনুন। তাও সম্ভব না হলে নিয়মিত কোন একটি পার্কের নির্দিষ্ট একটি স্থানে গিয়ে বসার চেষ্টা করুন। পথশিশুদের সাথে গল্প করতে পারেন। গল্পের ছলে তাদেরকে পড়াতে পারেন। অথবা কোন একটি চায়ের দোকান, কফিশপও বেছে নিতে পারেন। বিকালে বা সন্ধ‍্যায় নিয়মিত যাওয়ার চেষ্টা করুন।

এসবের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক হলে হালকা ড্রিংকস করতে পারেন, কিন্তু ভুলেও বাংলা সিনেমার নায়কদের মত বোতলে কোক ভরে মদ খাওয়ার ভান কইরেন না। খাইলে সলিড দুই এক পেগ খাইয়েন। জেনেশুনে খাইয়েন, মদ স্বাস্থ‍্যের জন‍্য ক্ষতিকর।

6

ঠিকানা মুছে ফেলবেন না

আমাদের পকেটে থাকা চিরকুটের কথা ভুলে যাই, কিন্তু কোন একদিন রাগ করে রাস্তায় ফেলে দেয়া একটা কাগজের কথা ভুলি না। মুছে ফেলা, এড়িয়ে চলা, অস্বীকার করার মাঝে এক ধরণের প্রতিশোধ পরায়ণতা থাকে, এটা ইতিবাচক নয়। যার কাছ থেকে প্রত‍্যাখ‍্যাত হয়েছেন, তার ফোন নাম্বার সেভ করা থাকলে ডিলিট করবেন না। ফেসবুকে কানেক্ট থাকলে আনফ্রেন্ড বা ব্লক করবেন না। চাইলে আনফলো করে রাখতে পারেন। মেসেজবক্সের মেসেজগুলো ডিলিট করলেও করতে পারেন। এবং অবশ‍্যই প্রেমের প্রস্তাব বিষয়ে তার সাথে নতুন কোন যোগাযোগ করবেন না। একদমই না। যদি সে আপনাকে পরীক্ষা করার জন‍্য ফিরিয়ে দেয়ার নাটক করে, তাহলে নতুন যোগাযোগ তার দিক থেকেই হবে, অথবা অন‍্য কোনভাবে হবে। ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনাকে আপনি যেন নাটক না ভাবেন। এটা আপনার জন‍্য সত‍্য ঘটনা।

7

দু’জনের পথ আলাদা করবেন না

প্রত‍্যাখ‍্যাত হওয়ার আগে যে যে পথে আপনাদের দেখা হয়ে যেত, সে পথে যাওয়া বন্ধ করবেন না। আগের মতই যাওয়া আসা করবেন। চোখাচোখি হলে হাসিমুখে দৃষ্টি বিনিময় করবেন। চলার পথে কোন কিছুতে সাহায‍্যের হাত বাড়ানোর সুযোগ পেলে স্বাভাবিকভাবে সাহায‍্য করবেন। খুব আগ্রহ নিয়ে যাবেন না, আবার দ্বিধা নিয়েও যাবেন না। মনে রাখবেন তাকে রাজি করাতে না পারার ঘটনাটি আপনার জীবনে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর একটি। হয়তো বিশেষ, কিন্তু একমাত্র ঘটনা নয়। সুতরাং ওই একটি অপ্রীতি দিয়ে অন‍্যসব ঘটনাকে দূষিত করবেন না। এবং অবশ‍্যই তার চলার পথে গালভর্তি দাঁড়ি, এলোমেলো চুল আর মোচড়ানো জামা পরে গাছ জড়িয়ে ধরে ‘যেখানে থেকো, সুখে থেকো, এই শুধু আমি চাই…’ জাতীয় গান গাইবেন না। আমি গেয়েছিলাম, পরেরটা ইতিহাস!

8

আমি কী মেয়েটিকে ডিজার্ব করি না? – এমনটি ভাববেন না

সে আপনার প্রেমের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি, এর মানে এই না যে আপনি তার অযোগ‍্য। বিষয়টা যোগ‍্যতা অযোগ‍্যতার নয়। বিষয়টা চাওয়া পাওয়ার। আপনি যা চেয়েছেন, তার মাঝে পেয়েছেন। কিন্তু সে পায়নি। তাই দু’জনের এক হওয়া হলো না। অন‍্যজনের পছন্দ অপছন্দ আপনার যো‍গ‍্যতা অযোগ‍্যতা নির্ণয় করে না।

9

আমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে সে ঠকেছে, পরে কাঁদবে – এমনটিও ভাববেন না

প্রস্তাব গ্রহণ না করায় ‘আঙুর ফল টক’ এর মত ভাববেন না যে, মেয়েটি আপনার যোগ‍্য নয়, সে ঠকেছে। আপনি একটা সোনার টুকরা, মাখনের পিস, আপনাকে হারিয়ে তার অনেক ক্ষতি হয়েছে – এসব ভাবনা মূলত ‘আমি মেয়েটির অযোগ‍্য’ কথাটি ঢাকার অপচেষ্টা। অথচ দু’টোর একটিও যৌক্তিক না। এ ধরণের ভাবনা আপনার মন মানসিকতায় আরো অনেক নেতিবাচক চিন্তা ও দর্শনের জন্ম দিবে। যার ক্ষতিকর প্রভাব আপনাকেই ভোগ করতে হবে। সুতরাং সাবধান! একটি প্রেমের প্রস্তাব যেন আপনাকে গ্রাস করার সুযোগ না পায়।

10

হায়! আমি সবকিছু হারিয়ে ফেললাম! – এটা আদ‍্যপান্ত ভুল কথা

আপনি কিছুই হারাননি। সে আপনার কিছুই কেড়ে নেয়নি। আপনার যা কিছু, সব আপনার কাছেই আছে। এমনকি তার প্রতি ভালোবাসাটুকুও। আপনি তাকে পাবেন বলে আশা করেছিলেন, কিন্তু পাননি। যা পাননি, তা হারানোর সুযোগ নেই।

11

তার জন‍্য আপনার ভালোবাসাটুকু রেখে দিন

কোথাও ফেলে দিয়েন না। কারণ ভালোবাসার মাঝেই শুভবোধ থাকে, অপরের প্রতি মঙ্গল কামনা থাকে। এটা ফেলে দিতে নেই। আপনার যত্নে গড়া ভালোবাসা নিশ্চয় এত তুচ্ছ না। ভুলে যাবেন কেন? হ‍্যাঁ, তার সাথে আপনার এক ছাদের নিচে থাকা হবে না, এক বালিশে ঘুমানো হবে না, এটা সত‍্য। কিন্তু এতে আপনার ভালোবাসার কোন ক্ষতি হয়নি। আপনার ভালোবাসা আপনার কাছেই আছে। রাখুন, থাকবে। ঘঁষে ঘঁষে মুছতে গেলে ক্ষতটা আপনার হবে।

12

নিজেকে নিজে স্বান্তনা দিন

আপনার পরিবার, আপনার বন্ধু স্বজনের জন‍্য আপনি অত‍্যন্ত প্রয়োজনীয় একজন মানুষ। সুতরাং নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের যত্ন নিন। নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবুন। এমন বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে নিজেকে নিজে স্বান্তনা দিন। নিজের সাথে নিজে কথা বলুন। ভাবুন, তাকে নিয়ে হয়তো খুব ভালো থাকতে পারতেন, কিন্তু তাকে ছাড়া একেবারে খারাপ থাকবেন না।

13

নিজের ভালোবাসা প্রমাণের জন‍্য উঠে পড়ে লাগবেন না

তাকে তার মত থাকতে দিন, আপনি নিজেরটা নিজের মত গুছিয়ে নিন। তার স্বাধীনতা আছে আপনাকে ফিরিয়ে দেয়ার, যেমন আপনার স্বাধীনতা ছিলো তাকে প্রস্তাব দেয়ার। আপনি প্রস্তাব দিয়েছেন, সে ফিরিয়ে দিয়েছে – ইটস ওভার। নিজের ভালোবাসা প্রমাণ করার পেছনে নতুন করে সময় নষ্ট করবেন না। এটা করলে নতুন নতুন জটিলতায় পড়বেন। সে বিরক্ত হবে। আপনার কথা সবাইকে বলে বেড়াবে। এমনকি সে অনিরাপদবোধ করতে পারে। যা আপনার জন‍্য অত‍্যন্ত বিব্রতকর। এলাকায় জানাজানি হবে। বাসায় বিচার আসতে পারে। ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়ার বেদনা ও বিব্রতকর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আপনি জীবনের পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এটা অত‍্যন্ত বিপজ্জনক। সুতরাং আপাতত ওসব ভুলে অন‍্যান‍্য কাজকর্মে মনযোগ দিন।

14

নিজেকে দোষারোপ করবেন না

কোনভাবেই নিজেকে দোষারোপ করা যাবে না। এভাবে না করে ওভাবে করলে প্রেমটা হয়ে যেতো, ইস্ দুপুরে অফার না দিয়ে যদি বিকেলে দিতাম, লাল জামা না পরে যদি হলুদ জামা পরে যেতাম, আগেরদিন এত ছোট ছোট করে চুল কাটানো ঠিক হয়নি, ফরমাল ড্রেসে না গিয়ে জিন্স টিশার্ট পরে গেলে ভালো হতো – এসব একেবারেই ফালতু চিন্তা। আপনি সেরা প্রস্তুতি নিয়েই গিয়েছিলেন। ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনাটা তার দিক থেকে ঘটেছে। এটা তার অধিকার। এখানে আপনি কিংবা সে, কেউই দোষী না। তারপরও যদি কারো না কারো ঘাড়ে দোষ চাপাতে চান, তাহলে এলাকার যে বড় ভাইকে আসতে যেতে সালাম দিতে হয়, তাকে দোষারোপ করুন। সালাম নেয়া ছাড়া ওই ব‍্যাটার আর কোন কাজ নেই। আপনার আরোপিত দোষ বয়ে বেড়ানোর কাজটা দিয়ে দিন।

আসলে এরকম পরিস্থিতে অন‍্যের বুদ্ধি কতটা কাজে লাগবে, বলা মুশকিল। কিন্তু কিছুটা হলেও সাহায‍্য করতে পারে। ভুলে যাবেন না, মূল কাজটা আপনাকেই করতে হবে, নিজের মত করে। শুধু মনে রাখতে হবে যাই করুন না কেন, তা যেন সহিংস এবং আত্মবিনাশী না হয়। বিশেষত জীবনের প্রথম প্রেমের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া না আসলে বিষয়টা মেনে নেয়া অনেক কঠিন হয়ে যায়। এ সময় নানাবিধ হৃদয়ঘটিত টানাপোড়নে সাময়িক ও স্থায়ী মানসিক সমস‍্যার সৃষ্টি হয়, যা একজন মানুষকে আমূল বদলে দেয়। আচার আচরণে ও জীবনচর্চায় অপরের জন‍্য অবোধগম‍্য বৈশিষ্ট‍্য যোগ হতে থাকে। ফলে কাছের মানুষরা বিভ্রান্ত হয় এবং ক্রমশ দূরে সরে যায়, অথবা মিশতে ভয় পায়। প্রায় সবক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ও একা হয়ে যাওয়ার ফলে জীবনের অন‍্যান‍্য দিক যেমন লেখাপড়া ও ক‍্যারিয়ারে খারাপ প্রভাব পড়তে থাকে। এক ধরণের বিষন্নতা, ব‍্যর্থতাবোধ ও নিজেকে বঞ্চিত ভেবে পারিপার্শ্বিক সবকিছুর প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞার জন্ম নিতে থাকে। এসব নেতিবাচক দিক আপনাকে নিজের জন‍্য ও অন‍্যের জন‍্য ক্ষতিকর হিসেবে তৈরি করবে। যা মোটেও ভালো কথা নয়।

তাই পরিস্থিতিকে ভূলভাবে ব‍্যাখ‍্যা করবেন না, ভুল পন্থায় গ্রহণ করবেন না, ভুল উপায়ে মনে ও মগজে ধারন করবেন না। জীবন অনেক সুন্দর, সামনে আরো অনেক সুন্দরের দেখা পাবেন। এখন হয়তো বিশ্বাস করবেন না, ভবিষ‍্যতে আরো অনেক সুন্দর সতেজ ভালোবাসা আপনার জন‍্য অপেক্ষা করছে। দেখে বিস্মিত হবেন। মনে মনে অতীত রোমন্থন করে মজা পাবেন। হয়তো অবচেতন মনে একটা দীর্ঘশ্বাস আসবে, কিন্তু তা আপনাকে থমকে দিবে না, আটকে রাখবে না।

ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন। জীবন উপভোগ করুন।

Facebook Comments

কিছু বলুন

দয়া করে মন্তব‍্য করুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.